আমার উত্থান পতনের জীবন নিয়ে কোনোদিন কাউকে বলতে চাইনি। আজ বলছি। আর দশটা ছেলের মতোই আমার জীবন। জীবনের তেত্রিশ বছর শেষে আমি হিসাব নিকাশ করতে বসে চিন্তা করে দেখলাম বাবা ও শ্বশুরের তুলনায় আমি ধনী। কিভাবে?

২০১১ সালে যখন এমবিএ করে বের হয়েছি তখন অলরেডি দুইটা জব ছেড়ে দিয়েছি। তিন নম্বর জবে ঢোকা মাত্রই রুবেল ভাই নামে এক প্রোগ্রামার কান টেনে ধরে বললেন আমি যেটা বলবো সেটা করলে জীবনে চাকরির মতো ভেজাল জিনিসে পা মাড়াতে হবে না।

হ্যা আজ অব্দি যেটার জন্য মন্দার বাজারে টিকে আছি সেটা আমার জন্য সাত রাজার ধন। হীরা মানিক রতন। এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের কথাই বলছি। চাকরি আমার জন্য একটা ডিমের খোলস মাত্র। বাহ্যিক পরিচয়। ওটা দিয়ে দেখাই যে পরিবারের জন্য করা। কিন্তু এসইও এর ব্যাপারটা ডিমের কুসুম।

২০১৩- নিজের প্রথম ইনিশিয়েটিভ "স্পীড আপ"। সে সময় ওয়েব ডিজাইন টুকটাক, গ্রাফিক ডিজাইন মোডারেট, এসইও মোটামুটি।

২০১৪- ইপিজেডে ঢোকা।
২০১৫- বেরিয়ে আসা। শেয়ারে আইটি বিজনেস দেয়া। এইস আইটির এমন ডিজিটাল মার্কেটিং করেছিলাম যে বীকন আইটির পরিচালক এসে দেখে গিয়েছিলেন কে এই রাগিব নিযাম। কিন্তু কপালের ফের। জিসান চাকরি ধর।

২০১৬ সাল- দি ইনিশিয়াল ওয়েব নামে তরুণদের নিয়ে একটা ফ্রিল্যান্সিং প্রজেক্ট হাতে নেই। বিয়ের বছর বলে সব মাটি হয়ে যায়। বছর শেষে দি আর টিম গঠন করি। একটু একটু করে ব্যবসায়ের শিশুটা ফর্ম নিতে শুরু করেছে। নতুন নতুন ব্লগ খুলতে আরম্ভ করেছি। এসইও য়ের নতুন ফরম্যাটগুলো একোয়ার করা আরম্ভ করেছি। পড়ছি, জানছি।

মাঝখানে একটু বিরতি দিচ্ছি। দাড়ান। আমার একটা আলাদা পরিচয় আছে, জানেন তো? সুপারহিরো সায়েন্স ফিকশন লেখক। ওটা প্যাশন হলেও মারাত্নক অস্ত্র নিজের মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে। চোখমুখ খিঁচে পাচ বছরে বানিয়ে ফেললাম বিশাল এক ইউনিভার্স। নিজের অফিশিয়াল পেইজে কোনোরকম স্পন্সর ছাড়াই ১০০০ লাইক কামালাম। শুধু পাচ বছর লেখালেখি উপলক্ষে একবার বুস্ট করেছি।

এদিকে,

২০১৭- নেইল পাটেল নামে এক ভদ্রলোক আমার এসইও জগতে উকিঝুকি মারা শুরু করলো। সে তার ইউনিভার্সিটিতে এমন সব শিখাইলো আমি পাচ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্কে এসইও টেস্ট উতরে গেলাম পাচ বার below average মার্ক নিয়ে ফেইল করার পর। এবার ২.৯৫ above average marks পেলাম। আপওয়ার্কের পক্ষপাতদুষ্ট টেস্টে ৪০ টার ভেতর ত্রিশটা আন্সার করার সাথে সাথে তারা টেস্ট অফ করে দিলো। (আল্লাহই জানে ৪০টা দিলে আমি বোধহয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ ৫ এ ৪ পেয়েছিলাম ঠিক তেমনই পেতাম।) সে যাই হোক, আপওয়ার্কে রেকর্ড পরিমাণ স্কিল টেস্ট দেয়ার পর ১১টির ভেতর ১০টিই উইন উইন।

১৭ এর শেষের দিকে পোলার মা গুতা দেয়া শুরু করলো। সংসারে টাকা লক্ষী। ভাবলাম নাহ এবার গা ঝাড়া দেই। দি আর টিম তখন একটু স্তিমিত। এর আন্ডারে একটা সিস্টার কনসার্ণ কোডসেল খুলি। এইবার বড়শি ফেললাম ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ফেসবুক গ্রুপে।

আমার পক্ষ থেকে অখানে পোস্ট হলো, "বাংলাদেশে টপ লেভেল ডোমেইনের অনলাইন শপ গুলির সাথে পেরে উঠছেন না কারা কারা?"

কটন কিডস ডট কমের ইমতিয়াজ ভাই ওই পোস্ট থেকে হয়ে গেলেন আমার প্রথম কাস্টমার। দু মাস কষ্ট করে উনার ওয়েবসাইটের পেইজ রেংক করে দিলাম থ্রি। মানে উনার কটন কিডস নাম দিয়ে গুগলে সার্চ দিলে সার্চ রেজাল্টের সাত নম্বর পেইজে। যারা এসইও এর ব্যাপারটা বোঝেন তারা জানেন গুগল খোজের এক নম্বর পেইজে আসলে যে কেউ জমজমাট ব্যবসা করতে পারে। উদাহরণ: বাগডুম, দারাজ, আজকেরডিল।

এরপর বোমা ছাড়া শুরু হলো। পিউর কন্টেন্ট লিখা আরম্ভ করলাম। দ্বিতীয় ক্লায়েন্ট অরিজিনইউকে দিয়ে শুরু হলো হাই কোয়ালিটির ব্লগ রিভিউ(অথচ এই ভদ্রলোকের ওয়েবসাইট আমাকে ভুগিয়েছে বেশি) লিখলাম। গুগল আমার কন্টেন্টে খুশি হয়ে পেজ রেংক আপ করা শুরু করলো। ব্লগগুলো কোনো রকম ডিজাইন ছাড়াই রেংক পেলো। সাথে দেশি বিদেশি কয়েক হাজার ইমেইল এড্রেস, নিজস্ব বিশাল ব্লগ নেটওয়ার্ক, সোশ্যাল ফোন নেটওয়ার্ক, সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক নিয়ে বসে আছি আপনাদেরই অপেক্ষায়। এখন প্রতিমাসেই ক্লায়েন্ট পাই। এভাবে দেখতে দেখতে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে কোডসেল পা দিলো এক বছরে। আমার প্রতিটা প্ল্যাটফর্ম ব্লগ ভিজিট হলো 10k-50k+। মানে হলো মানুষজন আমার লেখা পড়তে পছন্দ করে। নিজের গ্রুপ মেম্বার এখন 1k। আর ক্লায়েন্ট সংখ্যা জানা নেই।

যারা অনলাইন বিজনেসে নামছেন তাদের জন্য তৈরি হয়ে আছে কোডসেল। শুধুমাত্র বলবেন কোন প্যাকেজ লাগবে, দেখেন ব্যবসা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

ব্যবসায়ের যে কোনো উন্নয়নের জন্য কোডসেল- http://www.codecell.ml

হতে চাও আমার মতো?

আমার উত্থান পতনের জীবন নিয়ে কোনোদিন কাউকে বলতে চাইনি। আজ বলছি। আর দশটা ছেলের মতোই আমার জীবন। জীবনের তেত্রিশ বছর শেষে আমি হিসাব নিকাশ করতে বসে চিন্তা করে দেখলাম বাবা ও শ্বশুরের তুলনায় আমি ধনী। কিভাবে?

২০১১ সালে যখন এমবিএ করে বের হয়েছি তখন অলরেডি দুইটা জব ছেড়ে দিয়েছি। তিন নম্বর জবে ঢোকা মাত্রই রুবেল ভাই নামে এক প্রোগ্রামার কান টেনে ধরে বললেন আমি যেটা বলবো সেটা করলে জীবনে চাকরির মতো ভেজাল জিনিসে পা মাড়াতে হবে না।

হ্যা আজ অব্দি যেটার জন্য মন্দার বাজারে টিকে আছি সেটা আমার জন্য সাত রাজার ধন। হীরা মানিক রতন। এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের কথাই বলছি। চাকরি আমার জন্য একটা ডিমের খোলস মাত্র। বাহ্যিক পরিচয়। ওটা দিয়ে দেখাই যে পরিবারের জন্য করা। কিন্তু এসইও এর ব্যাপারটা ডিমের কুসুম।

২০১৩- নিজের প্রথম ইনিশিয়েটিভ "স্পীড আপ"। সে সময় ওয়েব ডিজাইন টুকটাক, গ্রাফিক ডিজাইন মোডারেট, এসইও মোটামুটি।

২০১৪- ইপিজেডে ঢোকা।
২০১৫- বেরিয়ে আসা। শেয়ারে আইটি বিজনেস দেয়া। এইস আইটির এমন ডিজিটাল মার্কেটিং করেছিলাম যে বীকন আইটির পরিচালক এসে দেখে গিয়েছিলেন কে এই রাগিব নিযাম। কিন্তু কপালের ফের। জিসান চাকরি ধর।

২০১৬ সাল- দি ইনিশিয়াল ওয়েব নামে তরুণদের নিয়ে একটা ফ্রিল্যান্সিং প্রজেক্ট হাতে নেই। বিয়ের বছর বলে সব মাটি হয়ে যায়। বছর শেষে দি আর টিম গঠন করি। একটু একটু করে ব্যবসায়ের শিশুটা ফর্ম নিতে শুরু করেছে। নতুন নতুন ব্লগ খুলতে আরম্ভ করেছি। এসইও য়ের নতুন ফরম্যাটগুলো একোয়ার করা আরম্ভ করেছি। পড়ছি, জানছি।

মাঝখানে একটু বিরতি দিচ্ছি। দাড়ান। আমার একটা আলাদা পরিচয় আছে, জানেন তো? সুপারহিরো সায়েন্স ফিকশন লেখক। ওটা প্যাশন হলেও মারাত্নক অস্ত্র নিজের মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে। চোখমুখ খিঁচে পাচ বছরে বানিয়ে ফেললাম বিশাল এক ইউনিভার্স। নিজের অফিশিয়াল পেইজে কোনোরকম স্পন্সর ছাড়াই ১০০০ লাইক কামালাম। শুধু পাচ বছর লেখালেখি উপলক্ষে একবার বুস্ট করেছি।

এদিকে,

২০১৭- নেইল পাটেল নামে এক ভদ্রলোক আমার এসইও জগতে উকিঝুকি মারা শুরু করলো। সে তার ইউনিভার্সিটিতে এমন সব শিখাইলো আমি পাচ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্কে এসইও টেস্ট উতরে গেলাম পাচ বার below average মার্ক নিয়ে ফেইল করার পর। এবার ২.৯৫ above average marks পেলাম। আপওয়ার্কের পক্ষপাতদুষ্ট টেস্টে ৪০ টার ভেতর ত্রিশটা আন্সার করার সাথে সাথে তারা টেস্ট অফ করে দিলো। (আল্লাহই জানে ৪০টা দিলে আমি বোধহয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ ৫ এ ৪ পেয়েছিলাম ঠিক তেমনই পেতাম।) সে যাই হোক, আপওয়ার্কে রেকর্ড পরিমাণ স্কিল টেস্ট দেয়ার পর ১১টির ভেতর ১০টিই উইন উইন।

১৭ এর শেষের দিকে পোলার মা গুতা দেয়া শুরু করলো। সংসারে টাকা লক্ষী। ভাবলাম নাহ এবার গা ঝাড়া দেই। দি আর টিম তখন একটু স্তিমিত। এর আন্ডারে একটা সিস্টার কনসার্ণ কোডসেল খুলি। এইবার বড়শি ফেললাম ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ফেসবুক গ্রুপে।

আমার পক্ষ থেকে অখানে পোস্ট হলো, "বাংলাদেশে টপ লেভেল ডোমেইনের অনলাইন শপ গুলির সাথে পেরে উঠছেন না কারা কারা?"

কটন কিডস ডট কমের ইমতিয়াজ ভাই ওই পোস্ট থেকে হয়ে গেলেন আমার প্রথম কাস্টমার। দু মাস কষ্ট করে উনার ওয়েবসাইটের পেইজ রেংক করে দিলাম থ্রি। মানে উনার কটন কিডস নাম দিয়ে গুগলে সার্চ দিলে সার্চ রেজাল্টের সাত নম্বর পেইজে। যারা এসইও এর ব্যাপারটা বোঝেন তারা জানেন গুগল খোজের এক নম্বর পেইজে আসলে যে কেউ জমজমাট ব্যবসা করতে পারে। উদাহরণ: বাগডুম, দারাজ, আজকেরডিল।

এরপর বোমা ছাড়া শুরু হলো। পিউর কন্টেন্ট লিখা আরম্ভ করলাম। দ্বিতীয় ক্লায়েন্ট অরিজিনইউকে দিয়ে শুরু হলো হাই কোয়ালিটির ব্লগ রিভিউ(অথচ এই ভদ্রলোকের ওয়েবসাইট আমাকে ভুগিয়েছে বেশি) লিখলাম। গুগল আমার কন্টেন্টে খুশি হয়ে পেজ রেংক আপ করা শুরু করলো। ব্লগগুলো কোনো রকম ডিজাইন ছাড়াই রেংক পেলো। সাথে দেশি বিদেশি কয়েক হাজার ইমেইল এড্রেস, নিজস্ব বিশাল ব্লগ নেটওয়ার্ক, সোশ্যাল ফোন নেটওয়ার্ক, সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক নিয়ে বসে আছি আপনাদেরই অপেক্ষায়। এখন প্রতিমাসেই ক্লায়েন্ট পাই। এভাবে দেখতে দেখতে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে কোডসেল পা দিলো এক বছরে। আমার প্রতিটা প্ল্যাটফর্ম ব্লগ ভিজিট হলো 10k-50k+। মানে হলো মানুষজন আমার লেখা পড়তে পছন্দ করে। নিজের গ্রুপ মেম্বার এখন 1k। আর ক্লায়েন্ট সংখ্যা জানা নেই।

যারা অনলাইন বিজনেসে নামছেন তাদের জন্য তৈরি হয়ে আছে কোডসেল। শুধুমাত্র বলবেন কোন প্যাকেজ লাগবে, দেখেন ব্যবসা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

ব্যবসায়ের যে কোনো উন্নয়নের জন্য কোডসেল- http://www.codecell.ml

No comments:

Post a Comment